ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ , ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিশ্ববাজারে ফের তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলার

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০২:১২:১৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০২:১২:১৯ অপরাহ্ন
বিশ্ববাজারে ফের তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলার ​ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার ঘটনায় সোমবার (১০ আগস্ট) তেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

রয়টার্স-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ সেন্ট বা ১.০৯ শতাংশ বেড়ে ৮৪.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৬১ সেন্ট বা ০.৭৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮.৭৯ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ধোঁয়াশা
গত সপ্তাহে আশা করা হয়েছিল যে, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া হবে। এই প্রত্যাশায় তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছিল। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

তবে রোববার (৯ আগস্ট) ইরান জানিয়েছে, ওমানের সাথে নতুন শিপিং লেন নির্ধারণের চুক্তিটি ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ থাকলেও এখনই এটি খুলছে না। তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটনকে আগে ইরানের ওপর চালানো হামলার ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘন করায় তাদের সাথে কোনো আলোচনায় বসবে না তেহরান।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, "বিনিয়োগকারীরা এখন আলোচনার টেবিলে কেবল কথার ফুলঝুরি নয়, বরং বাস্তব প্রমাণ খুঁজছেন। যতক্ষণ না ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের বাজারে এই চড়া দাম বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।"

সৌদি আরবে হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
তেলের দাম বাড়ার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা। ইয়েমেনের ইরান-পন্থি হুতি বিদ্রোহীরা রোববার সৌদি আরামকোর ‘জিজান’ শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আডনক’ (ADNOC) জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের অন্তত ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ